তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ। ৮ উইকেটের জয়ে সিরিজে দারুণ সূচনা করেছে টাইগাররা।
মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। শুরুতে দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাতের ব্যাটে ধীরে এগিয়েছিল পাকিস্তান। তবে দলের ৪১ রানের মাথায় ভাঙে ওপেনিং জুটি, সাহিবজাদাকে ফিরিয়ে উইকেটের উৎসবের শুরুটা করেন নাহিদ রানা। এরপর থেকে পাকিস্তান একের পর এক উইকেট হারায়। শুরুর ৫ উইকেটই তুলে নেন রানা। নাহিদ রানার পেসের সামনে যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
রানার গতি সামলে পাকিস্তান ১১৪ রান তোলে। ৪৭ বলে ৩৭ রান করে ফাহিম আশরাফ। এছাড়া সাহিবজাদা ফারহান খেলেন ৩৮ বলে ২৭ রান। নাহিদ রানার বোলিংয়ে ফাইফার ওঠে।
জবাবে নেমে বাংলাদেশকে বেগ পেতে হয়নি। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ঝড়ো ফিফটি হাঁকান। ৪২ বলে ৬৭ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন তিনি। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৩ বলে ২৭ রান করেন। শেষ দিকে লিটন দাস ৬ বলে ৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশ ২০৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জয়লাভ করে।
নাহিদ রানার ফাইফার এবং বাংলাদেশের বড় এই জয়—সব মিলিয়ে যেসব রেকর্ড হয়েছে:
- ১১৪ – পাকিস্তানের ১১৪ রান বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ফরম্যাটে তাদের সর্বনিম্ন ইনিংসের রেকর্ড। এর আগে ১৯৯৯ সালে নর্দাম্পটনে করা ১৬১ রান ছিল আগের রেকর্ড। সব দেশ মিলিয়ে হিসাব করলে এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ম সর্বনিম্ন ইনিংস।
- ৫/২৪ – নাহিদ রানার বোলিং ফিগার। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারের মালিক এখন নাহিদ রানা। আগের সেরা রেকর্ডটি ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের দখলে, ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে লর্ডসে ৫/৭৫।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পঞ্চম সেরা বোলিং করেছেন রানা। চূড়ায় আছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, ৬/২৬ বোলিং ফিগার ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে। একই বোলিং ফিগার রয়েছে রুবেল হোসেনেরও, ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, তবে রুবেলের ইকোনমি রেট বেশি। পরের দুই স্থানে আছেন রিশাদ হোসেন (৬/৩৫) ও মুস্তাফিজুর রহমান (৬/৪৩)।
৬ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নাহিদ রানার এটি সেরা বোলিং। আগের সেরা ছিল ২/৪০, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০২৪ সালে শারজাহতে।


